দেশে আগষ্ট-সেপ্টেম্বরে করোনা দ্বিতীয় সংক্রমণের ভয়ংকর শঙ্কা

আপডেট : ১০ জুলাই, ২০২০

অনলাইন ডেস্ক :  করোনা সংক্রমণের প্রথম ধাপে আপাতত আক্রান্তের হার কমতে থাকলেও ভয়ংকর রূপ নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে সংক্রমণের আশংকা করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগষ্ট মাসের শেষে কিংবা সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় সংক্রমণের শংকা তাদের। এরপরই শীত আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সময় পেরিয়ে গেছে চার মাসের বেশি। রোগীর সংখ্যাও দেড় লাখের ঘর অতিক্রম করেছে। আর মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই হাজার। অন্যান্য দেশগুলোর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের চূড়ান্ত ধাপ পেরিয়ে নিচের দিকে নামছে। তবে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে খুব সহসা বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ আসার আশংকা করছেন চিকিৎসকরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ  উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, সেকেন্ড আরেকটা ওয়েভ আসতে পারে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এখন রোগী কমছে বলে স্বাস্থ্যবিধি মানবো না, এমন করলে হবে না।

সংক্রমণের প্রথম দিকে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে গার্মেন্টস কারখানাগুলো খুলে দেয়ার পাশাপাশি রমজানের ঈদে মানুষ বাড়িমুখী হওয়ায় সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে যায়। যার জের এখনো চলছে।

চিকিৎসকদের মতে, অতীতের মহামারিগুলোর সংক্রমণের ধরণ অনুযায়ী প্রথম ধাপের ত্রুটিগুলোর ফাঁকে সংক্রমণ ঘটে দ্বিতীয় ধাপের।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল চিফ কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব বলেন, সব দেশেই কিন্তু সেকেন্ড ওয়েভ আসে। এছাড়া অন্যান্য মহামারিতেও কিন্তু সেকেন্ড ওয়েভ এসে মারাত্মক প্রাণহানি করেছিল।   

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা বলছেন, কোরবানির ঈদ পরবর্তী সময়েই বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এই অবস্থায় সেপ্টেম্বরের শুরুকে ধরা হচ্ছে সেকেন্ড ওয়েভের আনুমানিক সময়।

সিটি করপোরেশন আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক ডা. সুশান্ত বড়ুয়া বলেন, এই কোরবানিকে কেন্দ্র করে সেকেন্ড ওয়েভের আশংকা করছি। তার সাথে সামনে শীতকাল। সেকেন্ড ওয়েভ হবে চ্যালেঞ্জিং।

তবে দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখে ঈদে সরকারি ছুটি সীমিত রাখার পাশাপাশি আগেভাগেই যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা চলছে বলে জানা গেছে।