আহত জামালের পাশে অ্যাড. সুনাম দেবনাথ

২৯ এপ্রিল, ২০২০ | aparadhsutra.com

ছবি সংগৃহীত

জাহিদুল ইসলাম রিমন, বরগুনা থেকে: অর্থ-সম্পদ না থাকলেও জীবনে সুখের কোনো অভাব ছিলো না বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ছোট পোটকাখালী গ্রামের জামাল হোসেনের। পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই দিন কাটছিলো। কিন্তু হঠাৎ আসা এক ঝড়ে জীবন-সংসার সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে তার।

 

জামাল হোসেনের বাবা দিনমজুর ফারুক মিয়া জানান, বরগুনা সদর উপজেলার কলেজ রোড এলাকায় ছোটো একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সেখানে দর্জির কাজ করতেন জামাল। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে কাজকর্ম কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সুরক্ষা উপকরণের চাহিদা বাড়তে থাকায় জামাল নিজেই মাস্ক তৈরি করে তা বিক্রি শুরু করেন।

 

ফারুক মিয়া জানান, জামাল তার দোকানে মাস্ক বানাচ্ছে এমন খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে বরগুনা জেলা পরিষদ থেকে এক সপ্তাহের ভেতরে পাঁচ হাজার মাস্ক তৈরি করে সরবরাহ করার অর্ডার দেওয়া হয় তার ছেলেকে।

 

তিনি আরও জানান, যেহেতু এতগুলো মাস্ক এতো অল্প সময়ের ভেতরে তার ছেলের একার পক্ষে তৈরি করা সম্ভব ছিলো না তাই লকডাউনের ভেতরে গত ২৫ মার্চ বিকেল তিনটায় মাস্ক ক্রয় করতে মোটরসাইকেল যোগে জামাল ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হয়ে যান। দোকানপাট বন্ধের ভেতরে একটি গার্মেন্টস থেকে পাঁচ হাজার মাস্ক তৈরি করে এবং সে মাস্কে বরগুনা জেলা পরিষদের লোগো নামাঙ্কিত করে ২৮ মার্চ রাত দশটার দিকে পুনরায় মোটরসাইকেল যোগে বরগুনার উদ্দেশ্যে রওনা হন৷ কিন্তু পথিমধ্যে সকাল সাতটার দিকে ঢাকা বরিশাল হাইওয়ের বামরাইল নামক স্থানে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে গেলে মারাত্মকভাবে আহত হন জামাল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

এ প্রসঙ্গে আহত জামাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ চব্বিশ ঘন্টা অচেতন থাকার পরে জ্ঞান ফিরে পেয়ে দেখি, দুটি পায়ের একটি ভেঙে গেছে, অন্যটি গোড়ালি থেকে ভেঙে সেখান থেকেই কেটে ঝুলে গেছে। বরিশাল মেডিকেল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে এসেছি প্রায় এক মাস হয়ে গেছে কিন্তু এখনও তেমন একটা সুস্থ হই নি৷

 

তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক গরীব। দিন আনি, দিন খাই। বাবা মায়ের এতো টাকা খরচ করার সামর্থ্য নেই৷ তবুও ধারদেনা করে প্রায় সত্তুর হাজার টাকা চিকিৎসাসেবার পেছনে খরচ করেছে। দীর্ঘ এক মাস যাবত বিছানায় বসেই খাওয়া দাওয়া সহ যাবতীয় সবকিছু করতে হচ্ছে।

 

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, এতো বড় দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার পরও জেলা পরিষদের অর্ডারকৃত মাস্ক নির্দিষ্ট সময়েই তিনি সরবরাহ করেছেন। তবে অনেক অনুনয় বিনয় জানানোর পরও তার চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করার জন্য বিন্দুমাত্র এগিয়ে আসেনি জেলা পরিষদ।

 

তিনি বলেন, সাহায্য চাওয়ার বিনিময়ে তারা জানিয়েছে, এখন ফান্ডে টাকা নেই, টাকা হলে তখন সহযোগিতা করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রেখে এ প্রতিবেদককে বলেন, তাদের কাজ করতে গিয়েই তো আমি দুর্ঘটনায় পতিত হলাম, আমার এখন চিকিৎসার দরকার, পরে টাকা দিয়ে কি করবো?

 

এ সময় জামাল আরও জানান, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের সহযোগিতা না পেলেও তার অসুস্থতার খবর অবহিত হয়ে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথ। তার পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করার পাশাপাশি তার পরিবারের জন্য এক মাসের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

 

এ সময়ে আকুতি জানিয়ে জামাল হোসেন বলেন, অনেক দানশীল ব্যক্তি রয়েছেন বরগুনা শহরে। তারা অল্প করে করে আমার পাশে সহযোগিতার হাত নিয়ে দাঁড়ালে আমি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো৷ জামাল হোসেনকে সাহায্য করতে যে কেউ বিকাশ করতে পারেন ০১৭২৬-২৯৫৯৯৩ নাম্বারে।



  স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

Aparadh Sutra

Subscribe Me

নামাজের সময়সূচি

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০
ফজর ৪:২৬
জোহর ১১:৫৬
আসর ৪:৪১
মাগরিব ৬:০৯
ইশা ৭:২০
সূর্যাস্ত : ৬:০৯সূর্যোদয় : ৫:৪৩

শিরোনামঃ

♦ বাতিল হল ট্রাম্প-বাইডেনের নির্বাচনী বিতর্ক ♦ 'ঢাকায় প্রতি ১০ জনের ১ জন করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন' ♦ বাড়ির ওপরে হাঁটতে না দেয়ায় শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা! ♦ ঢাকায় আসছেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ♦ পদ্মাসেতুর ৩২তম স্প্যান বসছে শনিবার ♦ মানসিক স্বাস্থ্য সত্যিকারেই একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ: সায়মা ওয়াজেদ ♦ বিরল প্রজাতির তক্ষকসহ চোরাকারবারী আটক ♦ বিরল প্রজাতির তক্ষকসহ চোরাকারবারী আটক ♦ জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ব্রেইল সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন ♦ মহাকাশেও শক্তির প্রমাণ দেখাতে যাচ্ছে চীন